ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জহিরুল হক মিলন, ফেনী: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি পারিবারিক মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার পর উপজেলার তুলাতলি বাজার সংলগ্ন মনোরঞ্জন ডাক্তারের বাড়ির মন্দিরে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্দির ও বাড়ির মালিক নারায়ণ চন্দ্র নাথ ও শ্যামল চন্দ্র নাথ জানান, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের লোহার ফটকের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে মন্দিরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে এবং পরে ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে মন্দিরের প্রতিমাসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ও ধর্মীয় সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। বর্তমানে ওই পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার (২ মার্চ) সকালে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল ইসলাম ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও শাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” বর্তমানে মন্দির প্রাঙ্গণে পুলিশের একটি দল পাহারায় রয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাগনভূঞা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশীষ দত্ত জানান, ঘটনাটি বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট পার্থ পাল চৌধুরী এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, “মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সোমবার দুপুরে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ