ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মো. মনিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার টরকী, কটকস্থল ও বার্থী এলাকায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের লেনদেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে নির্দিষ্ট কিছু স্পটে মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশকে লক্ষ্য করে মাদক কারবারিরা তাদের জাল বিস্তার করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের টার্গেট করে মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ।” স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, মাদকের এই প্রভাবে বাজারে ছোটখাটো চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনাও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করছে এবং আটকের ঘটনাও ঘটছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের কিছুদিন পরই পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। অর্থাৎ, মাদকের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা মনে করেন, কেবল দায়সারা অভিযানের বদলে মাদক কারবারিদের শিকড় উপড়ে ফেলতে গোয়েন্দাভিত্তিক নিয়মিত ও ধারাবাহিক কঠোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সামাজিক কর্মীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, মাদকের মরণফাঁদে পড়ে পরিবারগুলো ভাঙছে, বাড়ছে বেকারত্ব ও অপরাধপ্রবণতা। পরিস্থিতির উত্তরণে কেবল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত ও গোয়েন্দাভিত্তিক কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি। এছাড়া স্কুল-কলেজে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি, অভিভাবক ও কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো এবং যুবকদের বিপথগামী হওয়া রোধে খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
গৌরনদী উপজেলাকে মাদকমুক্ত ও একটি নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকর এবং টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ