ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জলিলুর রহমান জনি, স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন হতদরিদ্র দিনমজুর আব্দুল মোতালেব। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ইউনিয়নের মুজিবকেল্লা ভোটকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বড় কয়রা গ্রামের বাসিন্দা মোতালেবের দুই পা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। ইতোমধ্যে তাঁর দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন, তবে স্বাভাবিকভাবে আবার হাঁটতে পারবেন কি না—সে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
আহত মোতালেবের স্ত্রী হালিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে তিনি ভোট দিতে যান। ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই পুলিশের ছোড়া গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমাদের সংসার চলবে কীভাবে, এখন আমাদের কী হবে?”
জানা গেছে, দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ কনস্টেবলের শটগান থেকে হঠাৎ ‘মিসফায়ার’ হয়ে ছোড়া গুলি মোতালেবের দুই পা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাজরান রউফ জানান, অভিযুক্ত কনস্টেবল ওহাব আলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে ঘটনাটি ভুলবশত নাকি ইচ্ছাকৃত।
ঘটনার তিন দিন পর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে মোতালেবের খোঁজ নেন। তিনি চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গৃহনির্মাণে মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানান, পুলিশ সদস্যের বন্দুক পরিষ্কার করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তবে এটি দায়িত্ব অবহেলা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, দিনমজুর মোতালেবের পরিবারে এখন চরম হাহাকার। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা মোতালেবের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ