ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর: গাজীপুর বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) কার্যালয় এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে গাড়ির ফিটনেস—সবকিছুতেই এখানে দালাল ও অসাধু কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট সক্রিয়। চাহিদামতো ঘুষ না দিলে মিলছে না সেবা, আর টাকা দিলে পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে লাইসেন্স।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী এলাকার চালক রাজিব হাওলাদার চার মাস ধরে লাইসেন্সের জন্য ঘুরছিলেন। অবশেষে মোটরযান পরিদর্শক মোঃ নাসিরুল আরিফিনের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে লাইসেন্স পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
একই চিত্র দেখা গেছে সালনা এলাকার কাউসার আহমেদের ক্ষেত্রেও। তিনি জানান, দেলোয়ার নামে এক দালালের সঙ্গে ১৪ হাজার টাকায় চুক্তি করেছেন। দালালের আশ্বাস— শুধু আঙুলের ছাপ ও ছবি দিলেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে লাইসেন্স। টঙ্গীর রাজু আহমেদও ৯ হাজার টাকায় দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর কথা স্বীকার করেছেন।
বিআরটিএ কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় গেলে দেখা যায় দালালদের প্রকাশ্য আনাগোনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে:
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা: টাকা না দিলে পাস করা কঠিন, আবার কর্মকর্তাদের সুপারিশ ও টাকা থাকলে পরীক্ষা ছাড়াই পাসের নিশ্চয়তা মেলে।
দালাল সিন্ডিকেট: কার্যালয়টিতে ২৫ থেকে ৩০ জন দালালের একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয়।
কর্মকর্তাদের যোগসাজশ: দালালরা সরাসরি দাবি করেন যে, সংগৃহীত টাকার একটি বড় অংশ (প্রতি লাইসেন্সে ২-৩ হাজার টাকা) মোটরযান পরিদর্শক মোঃ নাসিরুল আরিফিন ও মোঃ মহিউদ্দিনের মতো কর্মকর্তাদের পকেটে যায়।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গাজীপুর বিআরটিএ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) এস এম মাহফুজুর রহমান এবং মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের এই এড়িয়ে চলা দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন সেবাগ্রহীতারা।
সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে গাজীপুর বিআরটিএ-কে দালালমুক্ত করতে এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ