৩৬ বছরেও অবহেলিত রাজশাহীর ‘মডার্ন বক্সিং ক্লাব’

৩৬ বছরেও অবহেলিত রাজশাহীর ‘মডার্ন বক্সিং ক্লাব’

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীকে বলা হয় দেশের বক্সিংয়ের আঁতুড়ঘর। আর সেই ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘মডার্ন বক্সিং ক্লাব’। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের বক্সার তৈরি করলেও ক্লাবটি আজ চরম অবহেলার শিকার। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর আর্থিক সংকটে ক্লাবটির অগ্রযাত্রা এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম।

১৯৮৯ সালে প্রধান প্রশিক্ষক আবু সুফিয়ান চিশতি বাবুর হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই ক্লাবটি রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিবন্ধিত। বর্তমানে আবু সুফিয়ান বিকেএসপি-এর খুলনা আঞ্চলিক শাখার ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অবর্তমানে ২০০০ সাল থেকে কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শফিউল আজম মাসুদ।

১৯৮৬ সিউল এশিয়ান গেমসে মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে বক্সিংয়ে দেশের প্রথম পদক আসে। সেই অনুপ্রেরণায় মডার্ন বক্সিং ক্লাব উপহার দিয়েছে অসংখ্য তারকা। এখান থেকেই উঠে এসেছেন সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ী ইসরাফিল, বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া নাদিম হোসেন, মাহমুদ আলী মিঠু, জনি, আলামিন ও আরিফের মতো বক্সাররা। বর্তমান প্রজন্মের আবু তালহা, রবিন, জাহিদুল, উৎসব ও লিমনরাও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন।

বর্তমানে ক্লাবটিতে প্রায় ১০০ জন ছেলেমেয়ে নিয়মিত অনুশীলন করছে। অথচ ক্লাবটির আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। খুদে বক্সারদের মাসিক ফি মাত্র ৩০ টাকা এবং বড়দের ৫০ টাকা। এক জোড়া মানসম্মত গ্লাভসের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা, টিথ গার্ড ৩০০ টাকা এবং ব্যান্ডেজ ৫০০ টাকা। ক্লাবের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর এই সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে ক্লাব কর্তৃপক্ষকেই ধারদেনা করে তাদের সহায়তা দিতে হয়।

ক্লাবের প্রধান প্রশিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম মাসুদ বলেন, “রাজশাহীকে ‘সিটি অব বক্সিং’ বলা হয়। এই খেতাব অর্জনের পেছনে মডার্ন বক্সিং ক্লাবের অবদান অপরিসীম। কিন্তু দীর্ঘ ৩৬ বছরেও আমরা কোনো বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা সরকারি সহায়তা পাইনি। পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”

রাজশাহীর বক্সিং গৌরবকে বিশ্বদরবারে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্লাব সংশ্লিষ্ট ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

সকালবেলা

মন্তব্য করুন