সংস্কৃতি মন্ত্রী হলেন মাগুরার নিতাই রায় চৌধুরী, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

সংস্কৃতি মন্ত্রী হলেন মাগুরার নিতাই রায় চৌধুরী, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

এম এ রইচ, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিকেলেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর এই মন্ত্রীত্ব পাওয়ার খবর নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছালে মাগুরার মহম্মদপুর ও শালিখার নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। আনন্দ উল্লাসের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহম্মদপুর সদরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। এসময় জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মৈমুর আলী মৃধা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের ফল আমরা পেয়েছি। অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর এই প্রাপ্তি মাগুরা-২ নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য অশেষ কল্যাণ বয়ে আনবে। এদিকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক জীবনধারা ও নৈতিকতার মান উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে থেকে আমি কাজ করে যাব। সাংস্কৃতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সার্বিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখাই এখন আমার মূল লক্ষ্য। এসময় তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ৭ জানুয়ারি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত নিতাই রায় চৌধুরী ইতিপূর্বে জাতীয় পার্টির শাসনামলে শিক্ষা, আইন এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার ১৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ ভোট। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর এই আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ নেতা ড. বিরেন শিকদার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন