শরণখোলায় ছাত্রদল নেতা নিহত: ৪ জন আটক, জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শরণখোলায় ছাত্রদল নেতা নিহত: ৪ জন আটক, জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নাজমুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার জেরে আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩০) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে চারজনকে আটক করেছে। নিহত মাসুম স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, শনিবার রাতে মাসুম তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলার শিকার মাসুম ওই সময় মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান এবং তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও আঘাতের চিহ্ন ছিল।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালানো হচ্ছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় মাসুমকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরণখোলা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির। তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয় এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযানে নামে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহজাহান, তানজের, খলিল ও শাহীন নামে চারজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে খুড়িয়াখালী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন