৯ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, বেহাল দশা চুয়াডাঙ্গা মডেল মসজিদের

৯ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, বেহাল দশা চুয়াডাঙ্গা মডেল মসজিদের

নাজিয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: উদ্বোধনের মাত্র চার বছরের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গা জেলা মডেল মসজিদের সুসজ্জিত অবকাঠামোতে ধস নেমেছে। ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিসন্দন স্থাপত্যটি এখন নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত। মসজিদের দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে, পাইপলাইন লিকেজ হয়ে নষ্ট হচ্ছে প্লাস্টার, এমনকি বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর রশি টানাটানিতে মসজিদের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এখন চরম হুমকির মুখে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২১ সালের জুনে কাজ সম্পন্ন হওয়া এই মসজিদের অধিকাংশ দেওয়ালে ফাটল ধরেছে এবং টাইলস খুলে পড়ছে। নিরাপত্তার জন্য বসানো ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার সবকটিই এখন অকার্যকর। এর সুযোগ নিয়ে মসজিদের বাথরুমের ট্যাপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মসজিদে কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় চুরির আতঙ্ক বিরাজ করছে মুসল্লিদের মধ্যে। এছাড়া মসজিদের সামনেই পৌরসভা থেকে ময়লা ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণে মুসল্লিদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মনজুর রহমান জানান, ওজুখানা থেকে পানির পাইপ লিকেজ হয়ে প্লাস্টার ও রং খসে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অর্থে পাইপ সংস্কার করতে হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৯ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় যেকোনো সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি বিপুল অংকের টাকার কোনো সুরাহা হয়নি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত বিভাগ একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দায়সারা বক্তব্য দিলেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ কে এম শাহীন কবীর দাবি করেন, মসজিদটি গণপূর্ত বিভাগ তৈরি করলেও তারা এখনো এর পূর্ণাঙ্গ দায়ভার বুঝে পাননি। তবে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসিন জানান, ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মসজিদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের মাধ্যমেই মেটানোর কথা। ফলে হস্তান্তরের পর মেরামত বা বিদ্যুৎ বিলের দায়ভার আর গণপূর্ত বিভাগের হাতে নেই। এই প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত আধুনিক এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মুসল্লিরা।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন