ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ক্ষোভ ও সম্পত্তির লোভে সিরাজুল আল সামস (৭) নামে এক শিশুকে নৃসংশভাবে হত্যা করেছে তার আপন চাচাতো ভাই আমানুল ইসলাম আমান (২১)। গতকাল রবিবার (১ মার্চ) দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন। গ্রেপ্তারকৃত আমানকে আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ী ডাঙাপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিশু সামস ওই গ্রামের মইনুল ইসলামের ছেলে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ শনিবার বিকেলে আমানকে আটক করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে। আমান জানিয়েছে, তার চাচীর প্রতি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং চাচার সম্পত্তির ওপর লোভ থেকেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সামস ও তার পরিবার স্বচ্ছল জীবনযাপন করায় আমানের মনে হিংসা ও বিদ্বেষ তৈরি হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার দিন রাতে একটি পাঞ্জাবি সেলাইয়ের কথা বলে কৌশলে চাচীর বাড়ি থেকে সামসকে বাইরে ডেকে নিয়ে আসে আমান। পরে পাশের একটি মাদ্রাসার নির্জন কক্ষে নিয়ে শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর মৃতদেহটি পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় সে। রাতে সামসের মা ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আমানের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ওই ভুট্টাক্ষেত থেকে সামসের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমান ব্যক্তিগত আক্রোশ ও সম্পত্তির লোভে অবুঝ শিশুটিকে টার্গেট করেছিল। পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা ঘাতক আমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ