ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সাত স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জল্পনা তুঙ্গে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও, এঁদের সবাই এখন সংসদ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—তাঁরা কি দলে ফিরবেন, নাকি স্বতন্ত্র হিসেবেই সংসদে বিরোধী আসনে বসবেন?
১. রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২): ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছেন তিনি। বিএনপিতে ফেরার বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বর্তমানে তিনি অসুস্থ বলে জানিয়েছেন।
২. এ. জেড. এম. রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫): ‘তালা’ প্রতীক নিয়ে জয়ী এই নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল চাইলে তিনি অবশ্যই ফিরতে চান।
৩. এম. এ হান্নান (চাঁদপুর-৪): ‘চিংড়ি’ প্রতীক নিয়ে জয়ী হান্নান দাবি করেন, তিনি জন্মসূত্রে দলের লোক। আগে শপথ নিয়ে এরপর প্রক্রিয়াগতভাবে দলে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
৪. লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩): সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, তিনি আমৃত্যু বিএনপির সঙ্গেই আছেন এবং থাকবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই কাজ করতে চান তিনি।
৫. আতিকুল আলম (কুমিল্লা-৭): ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে জয়ী এই নেতা জানিয়েছেন, তিনি দলের কর্মী হিসেবেই থাকতে চান। তবে ফেরার বিষয়টি শপথের পর চূড়ান্ত করবেন।
৬. শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫): ‘হাঁস’ প্রতীকে জয়ী এই নেতা বলেন, দল চাইলে তিনি প্রস্তুত। তবে দল না চাইলে স্বতন্ত্র হিসেবেই এলাকার অধিকার আদায়ে কাজ করবেন।
৭. মোহাম্মদ সালমান ওমর (ময়মনসিংহ-১): তিনিও স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হয়ে দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দলবিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং এখনো তাঁদের ফেরার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যেহেতু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২০৯ আসন) নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, সেহেতু জয়ী বিদ্রোহীদের ফেরানোর বিষয়ে হাই কমান্ড কিছুটা নমনীয় হতে পারে—যদি তাঁরা নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং দলীয় আদর্শের প্রতি পুনরায় আনুগত্য প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে এই সাত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের ভাগ্য এখন বিএনপির কেন্দ্র ও তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ