রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
বাসস: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA)। এর ফলে চুল্লির পরবর্তী পর্যায়ের কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা ছিল গত সেপ্টেম্বরে। তবে নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে উচ্চ চাপে দুই দফা পরীক্ষা শেষে জমা দেওয়া ফলাফল গত বৃহস্পতিবার অনুমোদন করা হয়।
পরবর্তী ধাপে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া ('ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি') প্রতিষ্ঠা করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাপ উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইন চালু এবং প্রাথমিকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) প্রযুক্তির দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে কেন্দ্রটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিড শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রটির পরিকল্পিত আয়ুষ্কাল ৬০ বছর, যা প্রয়োজনে আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
এআইএল/সকালবেলা