এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস করল ইরান

এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমান ধ্বংস করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নজিরবিহীন এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি অত্যন্ত উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। ‘বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি’ (E-3 Sentry) মডেলের এই বিমানটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ‘আকাশের চোখ’ হিসেবে পরিচিত। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) মার্কিন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ ) দিবাগত রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরান এই বিধ্বংসী হামলা চালায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি নির্ভুল ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করে।

এই বিমানটি কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুদেশের যুদ্ধবিমান বা মিসাইল শনাক্ত করতে পারে। মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে বর্তমানে এই মডেলের মাত্র ১৬টি সচল বিমান ছিল। একেকটি বিমানের মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা)। যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান এবং আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে এই বিমানের কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিমানটি হারানো মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা। এটি ধ্বংস হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান অভিযানের সক্ষমতা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের এই অভাব পূরণ করতে হলে আধুনিক ‘ই-৭ ওয়েজটেইল’ বিমান আনতে হবে, যার একেকটির দাম প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যা তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ করা সম্ভব নয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন