ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে জমি সম্পূর্ণভাবে ক্রয় না করেই ‘টাঙ্গাইল মহানগর’ নামে একটি মেগা প্রকল্পের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শেয়ার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ডিজাইন ও অবকাঠামোর প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা মূল্যে শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করছে চক্রটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের ঘারিিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে প্রকল্পটির ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সেখানে ‘জুবিয়্যান্ট টাওয়ার (উত্তর গেট)’ নামে প্রথম ভবনের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞাপনে ১০০টি ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ভবন ৫০ থেকে ৬০ তলা বিশিষ্ট। প্রকল্পে স্কুল, মসজিদ, বাগান ও সুইমিং পুলসহ আধুনিক সব সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ধরা হয়েছে ১৭৪২ বর্গফুট।
তদন্তে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির মালিকানা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় জমির মালিক মুজিবর মিয়া জানান, তাঁর সাড়ে ৩১ শতাংশ জমি বায়না করা হলেও সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করায় এখনও দলিল সম্পন্ন হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন জমির মালিক। স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই তাঁদের আবাদী জমি বিক্রিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, ফলে প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যাংকার আব্দুস সবুর মিয়া বলেন, “যে পরিমাণ জমির প্রয়োজন, তা এখানে নেই। এছাড়া টাঙ্গাইলে ৫০ তলা ভবনের অনুমোদন পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।” সচেতন নাগরিকরা আশঙ্কা করছেন, শেয়ার বিক্রি করে সেই টাকায় পরে জমি কেনার পরিকল্পনা মূলত একটি প্রতারণার কৌশল হতে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণ ইউসুফ বলেন, “জমি সম্পূর্ণভাবে অধিগ্রহণ না করেই শেয়ার বিক্রি করা অনৈতিক এবং প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করে। প্রকল্পটির বৈধতা ও অনুমোদন নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, তাঁরা ধাপে ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। প্রথমে একটি ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং জমি পর্যায়ক্রমে ক্রয় করা হবে। পুরো প্রকল্প শেষ হতে ৫ থেকে ১৫ বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সচেতন মহলের মতে, বিনিয়োগের আগে প্রকল্পের বৈধতা, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ