যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কায় ইরান, নতুন বিক্ষোভে ক্ষমতা হারানোর ভয়

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কায় ইরান, নতুন বিক্ষোভে ক্ষমতা হারানোর ভয়

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা দেশজুড়ে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দিতে পারে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের ছয়জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা।

ছয়জন বর্তমান ও সাবেক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর জনক্ষোভ এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে মানুষকে আর ভয় দেখিয়ে দমন করা যাচ্ছে না।

চারজন বর্তমান কর্মকর্তা আরও বলেছেন, আলোচনায় বলা হয়েছে যে অনেক ইরানি আবার রাস্তায় নামতে প্রস্তুত, আর যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত হামলাও তাদের আরও সাহসী করে তুলতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের শত্রুরা দেশে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, যাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটে। তার ভাষায়, হামলার সঙ্গে যদি জনক্ষোভ যুক্ত হয়, তাহলে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে—এটাই ওপরের মহলের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এসব গোপন আলোচনা তেহরানের প্রকাশ্য কঠোর অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রকাশ্যে সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার করলেও ভেতরে ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব সতর্কবার্তায় খামেনির প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি, আর এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিক্ষোভ উসকে দেওয়া। যদিও ইসরায়েলি ও আরব কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা সম্ভব নয়।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন