ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ফিচার ডেস্ক: আকাশে রুপালি চাঁদের আভা জানান দেয় মহিমান্বিত শাবান মাসের উপস্থিতি। এই মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলিম বিশ্বের কাছে 'শবে বরাত' বা 'নিসফু শাবান' নামে পরিচিত। ফারসি শব্দ 'শব' মানে রাত আর 'বরাত' মানে মুক্তি। অর্থাৎ এটি মুক্তির রাত। তবে ভৌগোলিক সীমারেখা আর সংস্কৃতির ভিন্নতায় এই রাত পালনের ঢঙে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য।
দক্ষিণ এশিয়া: উৎসব ও ইবাদতের মেলবন্ধন
বাংলাদেশ, ভারত
ও
পাকিস্তানে শবে
বরাত
অনেকটা
উৎসবের
আমেজে
পালিত
হয়।
মসজিদগুলোতে ঢল
নামে
মুসল্লিদের। জিকির,
তসবিহ
আর
নফল
নামাজে
কাটে
পুরো
রাত।
তবে
এই
অঞ্চলের বিশেষত্ব হলো
'হালুয়া-রুটি'। ঘরে
ঘরে
নানা
পদের
হালুয়া
তৈরি
করে
প্রতিবেশী ও
আত্মীয়দের মাঝে
বিতরণ
করা
হয়।
পরদিন
রাখা
হয়
নফল
রোজা।
সন্ধ্যায় মৃত
স্বজনদের আত্মার
মাগফিরাত কামনায়
ভিড়
জমে
কবরস্থানগুলোতে।
তুরস্ক: 'বেরাত কান্দিলি'র আলোকসজ্জা
তুরস্কে এই
রাতটি
'বেরাত
কান্দিলি' নামে
পরিচিত। এই
রাতে
অটোমান
আমলের
বিশাল
বিশাল
মসজিদগুলো (যেমন:
ব্লু
মস্ক)
অপূর্ব
আলোকসজ্জায় সাজানো
হয়।
তুর্কিরা এই
রাতে
বিশেষ
এক
ধরনের
তিলযুক্ত বিস্কুট তৈরি
করে
যাকে
বলা
হয়
'কান্দিল সিমিতি'। তারা পরিবারসহ মসজিদে
গিয়ে
দীর্ঘ
সময়
দোয়া
ও
ধর্মীয়
সংগীতে
অংশ
নেয়।
মধ্যপ্রাচ্য: নিভৃত ইবাদতের রাত
সৌদি
আরবসহ
আরব
দেশগুলোতে শবে
বরাত
পালনে
দক্ষিণ
এশিয়ার
মতো
উৎসবের
ঘটা
থাকে
না।
সেখানে
একে
বলা
হয়
'নিসফ
শাবান'। আরবরা এই
রাতে
ব্যক্তিগতভাবে নফল
ইবাদত
ও
কোরআন
তিলাওয়াতে মগ্ন
থাকেন।
তবে
বর্তমানে অনেক
দেশে
এই
উপলক্ষে শিশুদের মাঝে
মিষ্টি
ও
উপহার
বিতরণের চল
দেখা
যায়।
ইরান ও ইরাক: অপেক্ষার আনন্দ
শিয়া
প্রধান
দেশগুলোতে বিশেষ
করে
ইরান
ও
ইরাকে
এই
রাতের
মাহাত্ম্য ভিন্ন।
তারা
একে
১২তম
ইমাম,
ইমাম
মাহদীর
জন্মদিন হিসেবে
পালন
করে।
রাস্তাঘাট আলোকসজ্জা করা
হয়
এবং
বড়
বড়
ধর্মীয়
সমাবেশ
অনুষ্ঠিত হয়।
ইরাকের
কারবালা ও
নজফে
এই
রাতে
লাখো
মানুষের ঢল
নামে।
ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া: 'মালাম নিসফু শাবান'
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই
রাতটিকে বলা
হয়
'মালাম
নিসফু
শাবান'। ইন্দোনেশিয়ার জাভা
অঞ্চলে
মানুষ
দলবেঁধে মসজিদে
সুরা
ইয়াসিন
পাঠ
করে।
অনেকে
আবার
স্থানীয় ঐতিহ্য
অনুযায়ী বড়
ভোজের
আয়োজন
করে,
যেখানে
গ্রামবাসী মিলেমিশে খাবার
খায়।
উপসংহার: সংস্কৃতি ও
পালনের
নিয়ম
ভিন্ন
হলেও
বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মূল
লক্ষ্য
থাকে
অভিন্ন—আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নিজেদের পাপ
থেকে
মুক্তি
পাওয়া।
ক্ষমা
ও
ভ্রাতৃত্বের এক
অনন্য
বার্তা
নিয়ে
আসে
এই
আধ্যাত্মিক রজনী।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ