জনসংখ্যা বাংলাদেশের অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ : শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে অনেকেই সমস্যা হিসেবে দেখলেও, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আশীর্বাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখানোর সক্ষমতা রাখে। অনেকে জনসংখ্যাকে বোঝা মনে করে, কিন্তু আমি মনে করি এটাই আমাদের আশীর্বাদ।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোনো কাঠামো থেকে বের করে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিল চালু, ‘লার্নিং হ্যাপি ক্লাস’ প্রতিষ্ঠা, এবং পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পারিবারিক ও নৈতিক মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রাথমিক স্তর থেকেই সাঁতার ও দাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষাদর্শনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ছোটবেলার অর্জিত নৈতিক মূল্যবোধ ও শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। শিশুদের শুধু বইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সঠিক মূল্যবোধ ও চারিত্রিক গুণাবলি শেখানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। তিনি রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং তাদের কিছু সত্য ও আদর্শকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন।
রাজনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পলিটিক্স করতে হবে জনগণের কল্যাণের জন্য, নিজের জন্য নয়। দেশের রাজনীতিবিদদের অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেধাবী ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
জান্নাত সকালবেলা
|