ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে এই চুক্তি অনুমোদন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হতাশা থেকেই এই চুক্তিতে বাধ্য হয়েছেন। এটি খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের পর চুক্তি নিয়ে প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া।
১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই চুক্তি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি (এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক নয়)। পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো।
চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে “কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, শর্ত না মানলে ইরান কোনো অর্থ বা নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা পাবে না। ভ্যান্স আরও জানান, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে এবং কোনো প্রক্সি গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করা যাবে না।
চুক্তির বিরোধিতা করছেন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য। জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিলেও, চুক্তি ঘোষণার পরপরই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে এবং হিজবুল্লাহ এই চুক্তির শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে।
জান্নাত সকালবেলা
|