গোবিপ্রবিতে দায়িত্ব পালন করেও দেড় বছর ধরে বেতন নেই খণ্ডকালীন শিক্ষকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোবিপ্রবি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত খণ্ডকালীন শিক্ষকরা দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করলেও সম্মানী না পাওয়ায় মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকলেও স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এসব শিক্ষকের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট মোকাবেলায় খণ্ডকালীন ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ২০ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, যারা ক্লাসের সংখ্যার ভিত্তিতে সম্মানী পেয়ে থাকেন। এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা ও অন্যান্য জরুরি একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খণ্ডকালীন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ও বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। শুরুতে নিয়মিত বেতন পেলেও ২০২৫ সালের শুরু থেকে হঠাৎ করেই তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্তমান বাজারে পরিবার-সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ বিকল্প চাকরির সন্ধান করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
বেতন ছাড়া ইতোমধ্যে দীর্ঘ দেড় বছরে চারটি ঈদ পার করা এক খণ্ডকালীন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে আমরা সব নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে ক্লাস নিচ্ছি। অথচ দেড় বছর ধরে একটি টাকাও বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে আছি। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাইনি। কখনো বলা হয় ইউজিসি (UGC) থেকে বাজেট এলে বেতন দেওয়া হবে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে আমরা এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।"
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশও শিক্ষকদের এই বকেয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো বিভাগের মূল একাডেমিক কার্যক্রম এই খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। এভাবে দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকলে শিক্ষকরা পাঠদানে নিরুৎসাহিত হবেন, যা আলটিমেটলি শিক্ষার পরিবেশ ও মানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোশিকুর রহমান বলেন, "ইউজিসি থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থ বরাদ্দ অবশেষে এসেছে। আশা করছি আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের এই বকেয়া বেতন পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বকেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "এখানে কর্মরত অধিকাংশ খণ্ডকালীন শিক্ষক ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত ছিলেন না। এ ছাড়া ইউজিসি থেকে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা ইউজিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। আশা করছি, চলতি জুনের মধ্যেই অন্তত বকেয়া অর্থের একটি বড় অংশ শিক্ষকদের বুঝিয়ে দেওয়া যাবে।"
|