ভারতকে পুশ-ইন বন্ধের আহ্বান জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মৌলিক মানবাধিকার উপেক্ষা করে নিষ্ঠুরভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে অথবা সীমান্তে আটকে পড়া অবস্থায় ফেলে রাখছে।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসএফ-এর এই কর্মকাণ্ডের ফলে বহু পরিবার দুই দেশের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। বিজিবি-র তথ্যমতে, গত ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২১টি পুশ-ইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে, যেখানে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য দেশত্যাগের এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ২০১৯ সালে আসামের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়াকেও সংস্থাটি ‘ত্রুটিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাটি ভারত সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে
অবিলম্বে এই নিষ্ঠুর ‘পুশ-ইন’ প্রক্রিয়া বন্ধ করা। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সাথে বৈধ দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ নিশ্চিত করা। বহিষ্কারের আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা ও আপিলের সুযোগ দেওয়া। মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের অবসান ঘটানো।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নাগরিকদের সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের বিদ্যমান ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তা এড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দুই দেশের বাহিনীর মাঝখানে আটকা পড়ছে, যা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
জান্নাত সকালবেলা
|