ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রাসেল রানা মেহেদী, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে জীবন্ত অবস্থায় ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি দিনমজুর আজিজুর রহমানের মরদেহ ১১ মাস পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের লাশ ফিরে পেয়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মে মাসে সীমান্ত এলাকায় কাজ শেষে গরুর ঘাস কাটার সময় ৩৭৩/১-এস পিলারের কাছ থেকে ভারতের ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর তার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে বিএসএফ জানায় আজিজুর চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে পরিবার তার অসুস্থ অবস্থার ছবি দেখে এতদিন বুক বেঁধে ছিল যে, তিনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন।
গত ২২ মার্চ খবর আসে আজিজুর ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এরপর বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে এবং কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রচেষ্টায় তার মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতিতে আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএসএফ মরদেহ হস্তান্তর করে।
নিহতের স্ত্রী তাছকারা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, "আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। সেই নির্যাতনের কারণেই তিনি আজ লাশ হয়ে ফিরলেন।" দীর্ঘদিন পর হলেও স্বামীর শেষ বিদায় নিশ্চিত করতে পারায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহমেদ জানান, বিএসএফের হাতে আটক আজিজুরের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহানাবাদ গ্রামস্থ পারিবারিক কবরস্থানে আজিজুরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এই করুণ মৃত্যুতে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয়রা সীমান্তে বিএসএফের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ