ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর: দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও জামালপুরে তা তোয়াক্কা না করেই চলছে বিসিক উদ্যোক্তা মেলা। জমকালো আলোকসজ্জা আর উচ্চশব্দের গান-বাজনার মধ্য দিয়ে জামালপুর পৌর শহরের বাইপাস এলাকায় এই মেলার কার্যক্রম চলছে, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) জামালপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এই ১০ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা শুরু হয়। মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলার শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রায় ৯০টি স্টল রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব ধরনের মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এই মেলায় তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) রাত ৯টায় মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকা রঙিন বাতিতে ঝলমল করছে। মেলার ভেতরে নৌকা রাইড, নাগরদোলাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক রাইড সচল রয়েছে। একই সঙ্গে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকদের ভিড় ধরে রাখছে। সরকারি আদেশ অমান্য করে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা ও দোকানপাটের সময়সূচী নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করা ধৃষ্টতার শামিল। আমাদের সবার উচিত রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলা।”
মেলার আয়োজক বিসিক জামালপুরের সহকারী পরিচালক সম্রাট আকবর বলেন, “মেলা চালানোর জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া আছে। সন্ধ্যার পর মেলা বন্ধ হবে কি না, তা জেলা প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুস জানান, তিনি এ ধরনের কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনার বিষয়ে অবগত নন। তবে আলোকসজ্জা ও দোকানপাট খোলা রাখার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন উদাসীনতা সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ