ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ হুমায়ুন কবীর, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিশু খাদ্য সরবরাহে বরাদ্দের টাকা নয়ছয় ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধনের দিনেই ৫টি উপজেলার লক্ষাধিক শিক্ষার্থী খাবার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিভাগীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বিশ্ব খাদ্য প্রকল্পের সহায়তায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচি শুরুর প্রথম ১৩ দিন কোনো খাবার সরবরাহ না করেই বিল উত্তোলন করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া পচা-বাসি কলা ও নিম্নমানের বনরুটি সরবরাহের বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মীর নজরে এলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আজ থেকে দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার প্রায় ৬ শতাধিক বিদ্যালয়ে কোনো খাবার পৌঁছায়নি। এর মধ্যে রয়েছে— গৌরীপুর, নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা, নকলা ও নালিতাবাড়ী।
গৌরীপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, "প্রথম দিনে অনেক বিদ্যালয়েই খাবার পৌঁছায়নি। কারা এই খাবার সরবরাহ করবে, সে বিষয়েও আমাদের পরিষ্কার ধারণা নেই।" জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবু ইউসুফ খানও এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ঢাকার আইসল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড এবং দ্বিতীয় ধাপে সমতা ট্রেডার্স ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালীদের সঙ্গে গোপন চুক্তিতে কাজ চলছে।
আইসল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের কর্ণধার মো: শাহাদাত হোসেন অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, "প্রথম পর্যায়ের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত চলছে। স্থানীয়ভাবে কাজ না দিলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতির কারণে সমঝোতা করে কাজ চালাতে হচ্ছে।"
অন্যদিকে, স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মাহাবুব স্বীকার করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপরাগতার কারণে ৫টি উপজেলায় প্রথম দিনে খাবার পৌঁছায়নি, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
জানা গেছে, বিতর্কিত ১৩ দিনের বিল বর্তমানে বকেয়া রেখে প্রথম ধাপের ৩ মাসের বিল ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে শিশু খাদ্যের নামে এই 'হরিলুট' বন্ধ না হলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ