মিঠু মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ছাত্রদলের এক নেতার হামলায় মো. ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মিঠু মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা জেলা শাখা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদা শামীমের অনুমোদনে দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যার পর মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড়ে চট্টগ্রামগামী একটি বাস কাউন্টারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেত্রকোনা জেলা শাখার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মদন কলেজ মোড় এলাকায় চট্টগ্রামগামী বাসের যাত্রীদের বিভিন্নভাবে দুর্ভোগ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ ওঠে। এই খবর পেয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসন উপস্থিত হলে যাত্রীরা তাঁদের কাছে হয়রানির নানা অভিযোগ করতে থাকেন।
ঠিক ওই সময় সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে সরে যেতে বললে তিনি পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং সৈয়দ মিঠুর অতর্কিত হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যাত্রীদের সঙ্গে বাস কাউন্টারে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। ওই সময় মিঠু নামের এক যুবকের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এই ঘটনায় মিঠুকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, কলেজ মোড় এলাকায় যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং উপস্থিত থেকে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অধিকাংশ যাত্রীর বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। তিনি আরও জানান, ওই সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, যার বিরুদ্ধে পুলিশ আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।