ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক আটককৃত ফিলিস্তিনি নারী ফুটবলার র্যান্ড হালাওয়ানি/ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই দুই নারী ফুটবলার ও তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ পাঁচ ফিলিস্তিনি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখায়নি ইসরাইল। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান ‘প্রতিশোধমূলক অভিযানের’ একটি অংশ।
মঙ্গলবার ভোরে পশ্চিম তীরের বিরজেইত শহরে নিজ বাসা থেকে আটক হন বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০ বছর বয়সী ছাত্রী সামা সাফি। গভীর রাতে ইসরাইলি সেনারা তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র দেখতে চায় এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা বলে। কারণ জানতে চাইলে সেনারা শুধু বলে, “আদালতে জানতে পারবেন”। বাড়ি তল্লাশির সময় সামার মোবাইল, ল্যাপটপ এবং ২০২৪ সালে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের ছবিও জব্দ করে সেনারা। বর্তমানে তাঁকে জেরুজালেমের আল-মাসকুবিয়া জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম বিভাগের শিক্ষার্থী নাতালি আবু দিয়াকে তাঁর হলের আবাসিক কক্ষ থেকে রাতের আঁধারে বলপ্রয়োগ করে আটক করে ওফার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুলান আবু আওয়াদ এবং সাবেক শিক্ষার্থী লায়লা নায়েল খলিলকেও ভোরের অভিযানে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে।
আটক হওয়া নারীদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিন নারী জাতীয় ফুটবল দলের দুই তারকা সদস্য নাতালি আবু দিয়া ও র্যান্ড হালাওয়ানি। এর মধ্যে র্যান্ড হালাওয়ানিকে জেরুজালেমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার পর গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর আটকাদেশ শুক্রবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের এভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি একে ‘পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তু বানানোর ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে ফিফাসহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়কে শুধু বিবৃতি না দিয়ে ফুটবলের কাঠামোর মধ্যে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে সামা সাফি 'ফ্যামিলিয়াল মেডিটেরেনিয়ান ফিভার' (এফএমএফ) নামের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগে ভুগছেন, যার চিকিৎসা বন্ধ হলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে জুলান আবু আওয়াদ তীব্র মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন, যার জন্য তাঁর নিয়মিত বিশেষ ইনজেকশন ও শক্তিশালী ব্যথানাশক প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা না পাওয়ায় দুই পরিবারই তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।