কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: ভোগান্তিতে পর্যটকেরা

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: ভোগান্তিতে পর্যটকেরা

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঈদের ছুটির মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান এই তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রচণ্ড গরমে এসি-ফ্যান ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হচ্ছে পর্যটকদের, অন্যদিকে জেনারেটর চালাতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বেড়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অনেক পর্যটক আগেভাগেই হোটেল বুকিং বাতিল করে গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সাবস্টেশনের একটি প্রধান পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর ফলে বর্তমানে হোটেল-মোটেল জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।

ঈদের ছুটিতে বর্তমানে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল হাজার হাজার পর্যটকে উপচে পড়ছে। কিন্তু আনন্দঘন এই সময়েই বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়। ঢাকার ফকিরাপুল থেকে আসা পর্যটক রনি এবং ঢাকা থেকে আসা ফায়াজ জানান, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটর দিয়েও ২-৩ ঘণ্টার বেশি ব্যাকআপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বাধ্য হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক মো. ইব্রাহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হোটেলের লিফটে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শিশুসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট আটকে ছিলেন। এতে তাঁরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পর্যটন নগরীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এমন অনিরাপদ পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

টানা লোডশেডিংয়ের কারণে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে জেনারেটর নির্ভরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হোটেল সী ক্রাউনের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন জানান, দিনের বড় অংশ বিদ্যুৎ না থাকায় অতিথিদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না, উল্টো জেনারেটরের কারণে জ্বালানি ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী জানান, ঈদের পরদিন থেকে দৈনিক ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে হোটেল পরিচালনায় শুধু জেনারেটরের ডিজেল বাবদই প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। কলাতলীস্থ শালিক রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মো. সেজান এবং কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, পর্যটন খাতের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অপরিহার্য। দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আয়ের এই খাতে সরকারের বিশেষ নজরদারি দেওয়া প্রয়োজন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন