মোঃ শরীফ উদ্দিন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আহত এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের কিপাতনগর গ্রামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। গত মঙ্গলবার সকালে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম রূপ ধারণ করে এবং উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে এক নারীর আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানা পুলিশ জানায়, স্কুল কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রামে নতুন করে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। তবে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা