দিল্লির মসজিদে হনুমান চালিসা পাঠের হুমকি: কালী সেনা প্রধানের

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ণ
দিল্লির মসজিদে হনুমান চালিসা পাঠের হুমকি: কালী সেনা প্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির সাধারণ মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে চরম হুমকিমূলক, বিতর্কিত এবং অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ড কালী সেনার রাজ্য সভাপতি উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা ভুপেশ জোশী। দিল্লির শান্তিপ্রিয় ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে প্রতি মঙ্গলবার দিল্লির প্রতিটি মসজিদের ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক হিন্দু ধর্মীয় প্রার্থনা ‘হনুমান চালিসা’ পাঠ করা হবে। উগ্রপন্থী এই নেতার এমন উন্মাদনাপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের রাজনৈতিক মহল এবং আমজনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক’ ও ‘বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ, দক্ষিণ এশীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে দিল্লির এই থমথমে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

দিল্লির পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি উসকানিমূলক ভিডিও ব্যাপকভাবে সামনে আসে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অতি সম্প্রতি দিল্লির বাসিন্দা হিন্দু কিশোর সূর্য চৌহানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন কালী সেনা প্রধান ভুপেশ জোশী। অভিযোগ রয়েছে, পবিত্র ঈদের দিন আসাদ নামের এক স্থানীয় মুসলিম যুবক সূর্য চৌহানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এই ঘটনার পর দিল্লির পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং পরবর্তীতে পুলিশের সাথে এক কথিত বন্দুকযুদ্ধে (এনকাউন্টার) প্রধান অভিযুক্ত আসাদ নিহত হয়। আসাদের মৃত্যুর পরও দিল্লির উগ্র ডানপন্থী সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দিল্লির মুসলমানদের সরাসরি টার্গেট ও উদ্দেশ্য করে উগ্রবাদী নেতা ভুপেশ জোশীকে বলতে শোনা যায়, “জয় শ্রী রাম, বন্ধুরা, জয় শ্রী রাম। আমি দিল্লির মুল্লাদের (মুসলমানদের) পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, তোমরা এবার নামাজ পড়া ভুলে যাবে।” তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আরও ঘোষণা করেন, হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দিন হিসেবে বিবেচিত প্রতি মঙ্গলবার দিল্লির প্রতিটি সক্রিয় মসজিদের ভেতরে ঢুকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা হনুমান চালিসা পাঠ করবে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে জোশী আরও বলেন, “তোমরা আমাদের পবিত্র ঈদের দিনে একজন নিরীহ হিন্দু ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছ। এবার হিন্দু সমাজ আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার মুডে নেই। আমরা এর চূড়ান্ত জবাব দেব।”

ভুপেশ জোশীর এই চরম উসকানিমূলক ও উগ্র বক্তব্য ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক নতুন সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কালো মেঘ ডেকে এনেছে। একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তীব্র ঘৃণা ছড়ানো এবং দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালানোর অপরাধে ভারতের প্রগতিশীল মহল, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ নেটিজেনদের মাঝে ভুপেশ জোশীর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকেই এই উগ্রবাদী নেতাকে দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, দিল্লির সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা দাঙ্গা ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য দিল্লির কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সাইবার ক্রাইম ইউনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও শেয়ারিং বন্ধের পাশাপাশি উসকানিমূলক মন্তব্যকারীদের ওপর কড়া নজরদারি রাখছে এবং রাজধানীর শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন