মোঃ সেরাজুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত এবং ১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) ভোর ৬টার দিকে সায়দাবাদ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত তরুণীকে চিকিৎসার জন্য খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— বেলকুচি উপজেলার আজুগরা হেজুল তলা গ্রামের বছির উদ্দিনের ছেলে মোতালেব হোসেন (৫৫), তাঁর স্ত্রী ফজিলা খাতুন (৪০) এবং একই গ্রামের সোনাউল্লাহ মুদির ছেলে অটোভ্যান চালক মো: নূর ইসলাম (৪৫)। এই ঘটনায় মোতালেব হোসেনের মেয়ে তামান্না খাতুন (১৬) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে 'ঢাকা এক্সপ্রেস' পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস যাত্রী নেওয়ার উদ্দেশ্যে এনায়েতপুরের দিকে যাচ্ছিল। বাসটি সায়দাবাদ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে (আজুগরা) আসা একটি যাত্রীবাহী অটোভ্যানের এক্সেল (স্কেল) হঠাৎ ভেঙে যায়। ওই সময় বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার চোটে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ফজিলা খাতুন মারা যান। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোতালেব হোসেন, তাঁর মেয়ে তামান্না এবং ভ্যানচালককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে রাস্তায় মোতালেব ও ভ্যানচালক মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এনায়েতপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো এই আঞ্চলিক সড়কে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। চালকদের এই বেপরোয়া মনস্তত্ত্বের কারণেই এখানে মাঝেমধ্যেই এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাম জাফর জানান, নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত ঘাতক বাসটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে এবং এই বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এআইএল/সকালবেলা