রাস্তার পাশে কুটিরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ণ
রাস্তার পাশে কুটিরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক চিলতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বুকফাটা হাহাকার করছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের আশেক আলী ও আবেদা বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধ দম্পতি এখন ব্যস্ত সড়কের ধারে একটি ভাঙা টিনের চালায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। যাদের একসময় সাজানো সংসার ছিল, আজ সন্তানদের অবহেলায় তারা রাস্তায় ঠাঁই নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো টিন আর বাঁশের তৈরি একটি নড়বড়ে চালায় গাদাগাদি করে থাকছেন ৪ জন। ঘরের ভেতর নেই কোনো ভালো বিছানা; মাটির ওপর ভাঙা খাটে বৃদ্ধ দম্পতি ও দুই নাতি-নাতনি ঘুমায়। একপাশে রাখা কয়েকটি হাঁড়ি-পাতিলই তাদের পুরো সংসার। আশেক আলী একসময় মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতেন, কিন্তু এখন শরীরে শক্তি না থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ। পরিবারের খরচ মেটাতে ৬০ বছর বয়সী আবেদা বেগমকে প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে হয়।

আশেক আলীর নিজস্ব কোনো জমি নেই। এতদিন এক আত্মীয়ের জমিতে থাকলেও মাসখানেক আগে সেখান থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে এই কুটির বেঁধেছেন। দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে থাকলেও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে কেউ এগিয়ে আসেনি। বৃষ্টি এলে ভাঙা চাল দিয়ে পানি পড়ে বিছানা-বালিশ ভিজে যায়, তখন ছোট্ট শিশুদের নিয়ে সারারাত জেগে থাকতে হয় তাঁদের।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেদা বেগম বলেন, “বাবা, মরার আগে শুধু একটু শান্তিতে থাকার জায়গা চাই। মানুষের বাড়ি ঘুরি ২-৩ সের চাল পাই, তা দিয়ে কোনোমতে পেটের ভোক মিটাই। বৃষ্টির রাতে ঘুমানো যায় না।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি জানলেও জনপ্রতিনিধিরা এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। একটি সরকারি ঘর বা স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে এই অসহায় পরিবারটি অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই পেত।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন