চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ে সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সিনহুয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যুর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে কোনো স্পষ্ট ঐক্যমত্য ছাড়াই তিনি ওয়াশিংটনের পথে রওনা হয়েছেন।
সফরের শেষ দিনে ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই সম্মেলনকে ‘সফল’ বলে দাবি করেন। তিনি জানান, সি চিন পিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরান যুদ্ধের অবসান দেখতে আগ্রহী। এমনকি এ বিষয়ে বেইজিং মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা হিসেবে চীন মৌখিক সমর্থন দিলেও কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
অন্যদিকে, তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিং তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। সি চিন পিং সরাসরি ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, তাইওয়ান প্রশ্নটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এটি সামলাতে ভুল হলে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে। মার্কিন থিংকট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতে, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের আড়ালে দুই দেশের অগ্রাধিকারের জায়গায় এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরান ইস্যুতে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে, তবে সি চিন পিং সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নীরব ছিলেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু বলেছে, এই যুদ্ধ ‘কখনো হওয়া উচিত ছিল না’। ফলে ট্রাম্পের এই সফরকে অনেকেই ‘মাইলফলক’ বললেও মূল সংকটগুলো এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা।