আব্দুল কাইয়ুম আরজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার বছর আগে সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় এটি কোনো কাজেই আসছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৭ দশমিক ৩২ মিটার প্রস্থের এই আরসিসি স্লাব সেতুটি খালের মাঝখানে ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপের’ মতো দাঁড়িয়ে আছে। সংযোগ সড়কের অভাবে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সেতুর পাশে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। প্রতিদিন খাজুরা আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ ৫-৬টি গ্রামের হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হচ্ছেন। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই ‘মরণফাঁদ’ পেরিয়ে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের গর্তে পড়ে ইতোমধ্যেই দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। ফাঁসিপাড়া গ্রামের আয়েশা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেতু আছে কিন্তু ওঠার রাস্তা নাই। আমাদের কপালে এইডা কী উন্নয়ন? তিন বছর আগে দুইডা শিশু পানিতে ডুইব্যা মরছে, তাও সরকারের হুঁশ হয় নাই।”
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও কাজ হস্তান্তরের জটিলতায় তা ঝুলে যায়। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে এখন নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন জানান, ঠিকাদার সময়মতো কাজ না করায় ভোগান্তি বেড়েছে। তবে বর্তমানে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে চলতি মাসের মধ্যেই সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। তবে বর্ষা শুরু হওয়ার আগে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম শঙ্কা বিরাজ করছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা