গরমে ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ণ
গরমে ঘামাচির যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়

বাইরে বের হলেই প্রচণ্ড গরম, রোদ আর ভ্যাপসা আবহাওয়ায় জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই তীব্র গরমে ছোট-বড় সবার ত্বকেই যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেয়, তা হলো ঘামাচি বা ‘হিট র‌্যাশ’। এটি যেমন যন্ত্রণাদায়ক, তেমনি অস্বস্তিকর।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক  ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যায়, তখন ঘাম ভেতরে জমে ফোসকা তৈরি করে। একেই আমরা ঘামাচি বলি।”

গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ত্বকের লোমকূপ বা ঘর্মগ্রন্থির মুখ আটকে গেলে ঘাম বের হতে পারে না। ফলে সেখানে লাল দানা বা ছোট ফোসকা তৈরি হয়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘মিলিয়ারিয়া’ বলা হয়। এটি সাধারণত দুই ধরনের: লালচে দানা ও তীব্র চুলকানি হয়। পরিষ্কার পানিভরা ফোসকার মতো হয়।

বাইরে থেকে ফিরেই গোসল করা যাবে না। অন্তত ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে ঘাম শুকিয়ে তারপর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করতে হবে। ঘামে ভেজা কাপড় দ্রুত পাল্টে ফেলুন। সবসময় ঢিলেঢালা সুতির হালকা রঙের পোশাক পরুন যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করুন।চুলকানি কমাতে ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় বা আইস প্যাক দিয়ে সেঁক দিন। ‘ক্যালামাইন লোশন’ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ভারী তেল বা লোশন এড়িয়ে চলুন। শিশুদের পাউডারের বদলে ক্যালামাইন লোশন লাগান এবং সবসময় ঘাম মুছে দেওয়ার চেষ্টা করুন।

ঘামাচি যদি খুব বেশি চুলকায়, পুঁজ হয় কিংবা আক্রান্ত স্থানে জ্বর বা প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া অনুভব হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই অবস্থাকে ‘মিলিরিয়া প্রোফাউন্ডা’ বলা হয়, যেখানে সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।

সঠিক গোসল, প্রচুর পানি পান এবং ত্বক শুষ্ক রাখাই পারে এই গরমে আপনাকে ঘামাচিমুক্ত রাখতে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন