স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি প্রমোদতরীতে বিরল হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ৩ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
মঙ্গলবার স্পেনের মাদ্রিদে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, "বিরল এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি।" তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাবের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ডব্লিউএইচও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিকে কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ নেই।
এমভি হন্ডিয়াস নামক প্রমোদতরীটি থেকে গত দুদিনে ১২০ জনের বেশি যাত্রী ও নাবিককে বিমানযোগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল দীর্ঘ হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডব্লিউএইচও-র নির্দেশনা অনুযায়ী, উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ৪২ দিনের নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে (কোয়ারেন্টিন) রাখা হচ্ছে।
জাহাজটিকে নোঙর করা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে কেপ ভার্দে জাহাজটিকে প্রবেশের অনুমতি না দিলেও পরবর্তীতে স্পেন তাদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙরের অনুমতি দেয়। যদিও দ্বীপপুঞ্জের আঞ্চলিক সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল। এ প্রসঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, "বিশ্বের এখন আরও স্বার্থপরতা বা ভয় নয়, বরং সংহতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন।"
হান্টা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে জনস্বাস্থ্যের জন্য বর্তমানে বৈশ্বিক ঝুঁকি কম বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলে সমন্বয় বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।