সিলেটের মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধের নির্দেশ
সিলেট ব্যুরো: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, মাজারকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।
এই লক্ষ্য পূরণে মাজারে নতুন দানবাক্স চালু, দানের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা এবং সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মাজারের একাংশ ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের আগে হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার মসজিদে বক্তব্যকালে জেলা প্রশাসক এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং দানের জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন।
ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেন, "ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত এই ধর্মীয় স্থানগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল ও আধুনিকভাবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ জন্য মাজার ও মসজিদকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, নারীদের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জোরদারসহ দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে মাজারগুলোকে আরও সুন্দর ও সেবাবান্ধব করা হবে।"
দান ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষ চায় তাদের দেওয়া কষ্টের অর্থ যেন স্বচ্ছভাবে ব্যয় হোক। দানের অর্থের হিসাব ও ব্যবহারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, "হাতে হাতে দান সংগ্রহের পরিবর্তে আমরা এখন থেকে নির্দিষ্ট দানবাক্স ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। মাজারের আয়ের কোনো অর্থ সরকার গ্রহণ করবে না, বরং এই অর্থ মাজারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।"
মাজারে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে ডিসি বলেন, মাজারের মতো পবিত্র স্থানে মদ-গাঁজা বা অন্য কোনো মাদকের আসর কোনোভাবেই বসতে দেওয়া হবে না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা প্রায়ই অভিযোগ পাই, কোনো কোনো মাজারে মদ বা গাঁজা সেবন করা হচ্ছে। এটি দেশের আইনে যেমন অপরাধ, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো পবিত্র স্থানে বসে এই অপরাধ করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" মাজারকেন্দ্রিক অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন।
ডিসি আরও বলেন, "আমরা চাই মাজারগুলোতে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত হোক, যেখানে মানুষ এসে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও পবিত্রতার অনুভূতি লাভ করতে পারবেন।"
এআইএল/সকালবেলা
|