গোলাভর্তি আলু, বুকভর্তি দীর্ঘশ্বাস: দিশেহারা বগুড়ার কৃষক

গোলাভর্তি আলু, বুকভর্তি দীর্ঘশ্বাস: দিশেহারা বগুড়ার কৃষক

ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার বগুড়ায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধস নেমেছে দামে। মাঠভর্তি ফলন আর গোলাভর্তি আলু থাকলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারদর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের বিস্তর ফারাক: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত বীজের কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। তবে কৃষকদের তথ্যমতে, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি বাবদ খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১২ টাকায়। এই দামে আলু বিক্রি করলে মূলধন তোলাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

হিমাগারে মজুদের চাপ ও আর্থিক ঝুঁকি: বাজারে দাম কম থাকায় লোকসান এড়াতে অনেক কৃষক আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করছেন। এতে বস্তা, পরিবহন ও সংরক্ষণ ভাড়ার বাড়তি খরচ যুক্ত হয়ে ব্যয়ের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে। দুপচাঁচিয়া উপজেলার এক কৃষক জানান, এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, এখন সেই ঋণ শোধ করা নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। আড়তদারদের মতে, সারাদেশে একযোগে আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত রপ্তানি সুবিধা না থাকায় এই দরপতন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত ও কৃষকদের দাবি: কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সময়মতো বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাব এই সংকটের মূল কারণ। কৃষকের আস্থা ধরে রাখতে তারা সরকারি পর্যায়ে আলু ক্রয় কার্যক্রম জোরদার এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

কৃষকদের প্রধান ৫টি দাবি: ১. সরকারি উদ্যোগে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে আলু কেনা। ২. নতুন নতুন দেশে আলুর রপ্তানি বাজার খোঁজা। ৩. হিমাগার ভাড়ার হার সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা। ৪. কৃষিঋণের সুদ কমানো ও কিস্তি পরিশোধে বিশেষ সুবিধা দেওয়া। ৫. বাজার তদারকি জোরদার করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী মৌসুমে কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক খাদ্য বাজারে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন