চিন্তা চেতনা ও শব্দচয়নে বিএনপি নেতা-মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে হবে
দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যখন ঢাকায় ফিরে আসেন, তখন দেশের সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে এই দীর্ঘ সময়ে সচেতন হওয়া নতুন প্রজন্ম তাঁকে নতুন করে শোনার ও জানার সুযোগ পায়। ঢাকায় আয়োজিত ওই ঐতিহাসিক সমাবেশে তাঁর মুখে ‘বিসমিল্লাহ’, ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ কিংবা ‘আল্লাহর রহমত’—এর মতো পরিভাষা শুনে এ দেশের মুসলিম জনতা তাঁর মাঝে নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখতে পেয়েছিলেন।
বয়োবৃদ্ধরা যেখানে তাঁর মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি খোঁজার চেষ্টা করেছেন, আবার মধ্যবয়সীরা খুঁজে পেয়েছেন দেশপ্রেম ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছায়া। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী প্রচার, সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়ায় তাঁর মিতব্যয়িতা, সময়ানুবর্তিতা, পরিমিতিবোধ ও ক্ষমাশীল রাজনৈতিক আচরণ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন আশাবাদের সৃষ্টি করেছে।
তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী যখন তাঁর সংযত বক্তব্য ও সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও দলীয় ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখন বিএনপির কিছু নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর অসতর্ক বক্তব্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও শব্দচয়ন সেই সুফলে আঘাত হানছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকে সেসব দেশে 'স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ' নিয়ে বিভাজনের চর্চা বিলুপ্ত হলেও বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক বিভাজনকে দীর্ঘদিন লালন করা হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইনক্লুসিভ 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' প্রবর্তনের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি সংকটের নিরসন ঘটান এবং দেশের আলেম-ওলামা, বামপন্থী, ডানপন্থীসহ সব মতের মানুষকে জাতীয় স্বার্থে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন। তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ ও ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বর্তমানে বিএনপির কিছু দায়িত্বশীল নেতার আচরণে সেই আদর্শ ও ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। কখনো তাদের কণ্ঠে আধিপত্যবাদের সুর, কখনো বা ইসলামী মূল্যবোধ ও মাদরাসা-মসজিদভিত্তিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য শুনতে পাওয়া যায়। মন্ত্রী ও নেতাদের অনেকেই ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বা শরীয়াহ বিধান নিয়ে যে ধরনের অদূরদর্শী মন্তব্য করছেন, তা দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের অন্তরে আঘাত সৃষ্টি করছে এবং সরকারের ইতিবাচক সংস্কারের বার্তাকে ব্যাহত করছে।
রাষ্ট্রের সঠিক পরিচালন ও দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষণ রাখার স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এসব নেতা ও মন্ত্রীদের অযাচিত আচরণ খর্ব করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি নেতা, এমপি ও মন্ত্রীদের উচিত নিজেদের মরহুম রাজনৈতিক অভিভাবকদের ঐতিহ্য এবং দলীয় প্রধানের মার্জিত সংস্কৃতি, সংযত ভাষা ও দায়িত্বশীল আচরণ অনুসরণ করে পথ চলা।