আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘জনস্বাস্থ্য’ বিভাগের এক বিশেষ জরুরি প্রতিবেদনে দেশের হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্বেগের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) মহামারি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ জরুরি সংবাদ বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিশিয়াল বার্তায় বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামরোগীর (Suspected Measles) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৪ জনে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ১ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭০ জনে।
ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামরোগী (Confirmed Measles) হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪৫ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ১ জুন পর্যন্ত মোট ল্যাব নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিশেষ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৭ হাজার ৯০২ জন রোগী। তবে আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে একই সময়কালের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছেন বা ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭২২ জন।
সরকারি বার্তা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৪৯৮ জন রোগীর মৃত্যু হলো, যাদের সিংহভাগই শিশু।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে নতুন করে কেউ মারা যায়নি। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে ১ জুন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে দেশজুড়ে মোট ৯০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সরকারি নথিতে রেকর্ড করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) আরও জোরদার করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি এবং লালচে র্যাশ বা দানা দেখা দিলে অবহেলা না করে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
জান্নাত সকালবেলা