মুকসুদপুর প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ সেলিম মোল্লাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাশালিয়া ইউনিয়নবাসী ও ৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে।
গত ৩১ মে ২০২৬ তারিখে মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম শরীফ স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কার নোটিশে জানানো হয়, কাশালিয়া গ্রামের গোছের মোল্লার পুত্র মোঃ সেলিম মোল্লাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কাশালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে。
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সেলিম মোল্লা বিভিন্ন সময়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাবির মিয়া এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কাশালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সেলিম মোল্লা তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী, আত্মীয়-স্বজন এবং ভাগ্নে সজীবসহ একটি প্রভাবশালী গ্রুপ গঠন করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে জনমনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। ফলে কাশালিয়া ইউনিয়নের বহু সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কর্মকাণ্ডের কারণে দল ও সাধারণ মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চললেও অবশেষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে সেলিম মোল্লাকে বহিষ্কার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
কাশালিয়া ইউনিয়ন ও ৩ নং ওয়ার্ডের অনেক বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এলাকাবাসী ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এআইএল/সকালবেলা