বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রূপালী পর্দার অন্যতম শীর্ষ গ্ল্যামারাস ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। বেশ দীর্ঘদিনের একটা বড় বিরতি ভেঙে আবারও দেশের রূপালী পর্দায় জমকালোভাবে ফিরছেন এই লাক্স-তারকা। তবে ঢালিউডের এই শীর্ষ নায়িকার এবারের ফেরাটা শুধু নামমাত্র ফেরার জন্য নয়, এর নেপথ্যে জড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর লাখো ভক্ত-অনুরাগীদের প্রতি এক গভীর আত্মিক ও পেশাদার দায়বদ্ধতা। সম্প্রতি এক জমকালো বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, ভক্তদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকুল অনুরোধের কথা মাথা রেখেই তিনি নতুন এই মেগা প্রজেক্টে সগৌরবে যুক্ত হয়েছেন।
আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টা ৪৬ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘ঢালিউড গ্ল্যামার’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিদ্যা সিনহা মিমের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর হাতে থাকা একঝাঁক নতুন সিনেমার বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নিজের নতুন সিনেমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, “আমি কিন্তু মূলত এই নতুন ছবিটা করেছি সম্পূর্ণভাবে আমার ভালোবাসার ভক্তদের কথা চিন্তা করেই। আমার যে ফ্যান-ফলোয়াররা আছেন, তারা অনেক দিন পর দেশের বড় পর্দায় আমার কোনো নতুন ধামাকা প্রজেক্ট দেখতে পাচ্ছেন ভেবে ইতিমধ্যেই ভীষণ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। কারণ, সর্বশেষ ‘অন্তর জ্বালা’ সিনেমাটি সুপারহিট হওয়ার পর বাংলাদেশে আমার নতুন কোনো কমার্শিয়াল সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি। মাঝে কলকাতার ওপার বাংলায় জিতের বিপরীতে ‘মানুষ’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল, যা বেশ প্রশংসিত হয়। তবে দেশের ভেতরের দর্শকরা দেখা হলেই শুধু একটা কথাই আবেগের সাথে বলতেন— আপু, আপনার নতুন বাংলাদেশি সিনেমা কেন সিনেমা হলে আসছে না?”
মাঝের এই দীর্ঘ বিরতির কারণ স্পষ্ট করে মিম তাঁর কথায় বলেন, “মাঝের এই অলস সময়টায় আমার হাতে ও টেবিল জুড়ে প্রচুর বড় বড় সিনেমার স্ক্রিপ্ট ও প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু সত্যি বলতে, কোনোটার মূল গল্প আমার মন ছুঁয়ে যায়নি, আবার কোনোটার ক্ষেত্রে নিজের চরিত্রটি একদম পছন্দ হয়নি। অনেক সময় এমন কিছু সাধারণ চরিত্রের অফার করা হয়েছে, যা পুরো পর্দায় খুবই সামান্য বা গুরুত্বহীন। সব মিলিয়ে স্ক্রিপ্ট ও ডিরেকশন মনমতো না হলে আমি কোনো প্রজেক্টে সাইন করি না। আর ঠিক এই কঠোর পেশাদার কারণেই মাঝের দিনগুলোতে অনেক নামী পরিচালকের ছবিকেও হাসিমুখে ‘না’ বলতে হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “সব প্রজেক্টেই যখন একের পর এক ‘না’ বলছিলাম এবং ভক্তদের মেসেজ আসছিল, ঠিক তখনই এই দারুণ স্ক্রিপ্টটা আমার কাছে আসে। আমার তখন মনে হলো, ক্যারিয়ারে অনেক লম্বা একটা গ্যাপ বা বিরতি হয়ে যাচ্ছে, ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে এবার অন্তত পর্দায় কিছু একটা করা দরকার। গল্প ও চরিত্রের গভীরতা চমৎকার লাগায় ভাবলাম, এবার একটু রিস্ক নিয়ে শুটিংয়ের কাজটা শুরু করেই দেই।”
চরিত্রের বিশেষত্ব নিয়ে মিমের স্পষ্ট কথা, “এই নতুন ছবির সবচেয়ে মৌলিক ও শক্তিশালী দিক হলো, আমার জন্য নির্ধারিত চরিত্রটির একটা দারুণ মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা (Depth) আছে। আমি আসলে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এমন পারফরম্যান্স-ওরিয়েন্টেড চরিত্রই খুঁজি, যার ভেতরে একজন অভিনেত্রী হিসেবে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে যাওয়া যায়। পুরো গল্পের বাঁকে বাঁকে চরিত্রটির এমন একটি দুর্দান্ত ভূমিকা ও ট্রুইস্ট থাকবে, যা দর্শক সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার পরও সারাজীবন মনে রাখবেন।”
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে প্রিয় ভক্তদের জন্য আরও বড় একঝাঁক সুখবর দিয়ে এই ঢালিউড কুইন জানান, শুধু এই একটি সিনেমাই নয়, আগামী দিনগুলোতে রূপালী পর্দায় দর্শকদের জন্য আসছে আরও বেশ কিছু মেগা চমক। মিম অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমার আরেকটি প্রজেক্টের কাজ ইতিমধ্যেই ১০০ ভাগ রেডি হয়ে সেন্সর বোর্ডে আছে, সেটি হলো প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের জীবননির্ভর সিনেমা ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’। এই সিনেমাটি মেকিং ও অভিনয়ের দিক থেকে সম্পূর্ণ অন্য লেভেলের একটি সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রেক্ষাগৃহে দেখলে দর্শকরা নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন। আশা করছি খুব শিগগিরই এটি বড় পর্দায় মুক্তি পাবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে আমি ‘লাইফ লাইন’ ও ‘জীবন অপেরা’ নামের দুটি বিগ বাজেটের সিনেমার শুটিং ও ডাবিংয়ের কাজ সফলভাবে শেষ করেছি। সেগুলোও একে একে সঠিক সময় বুঝে দর্শকের সামনে থিয়েটারে আসবে।”
জান্নাত সকালবেলা