ক্রীড়া প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি ও উৎসবের আমেজ শেষে আবারও চেনা ছন্দে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ‘ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ’ (DPL)। আগামীকাল মঙ্গলবার লিগের অষ্টম রাউন্ডের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শক্তিশালী লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা ঐতিহ্যবাহী দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। মর্যাদার এই লড়াইয়ের ঠিক আগে সাদা-কালো শিবিরে নতুন করে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের দুই তারকা এক্সপ্রেস পেসার নাহিদ রানা এবং তাসকিন আহমেদ, যা ক্লাবের শক্তিমত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল ৫টা ১৪ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলা’ ও ‘ঘরোয়া ক্রিকেট’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ডিপিএলের অষ্টম রাউন্ডের প্রস্তুতি এবং মোহামেডান কোচের মানসিক অবস্থা ও রণপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মোহামেডানের ডেরায় দেশের দুই সেরা গতিল তারকাকে মেগা সাইনিং হিসেবে দলে পাওয়ায় বেশ আত্মবিশ্বাসী দলটির প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। তবে একই সাথে বর্তমানের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে প্রতিটি ম্যাচই যে একেকটি রূপক ফাইনালের মতো কঠিন, সেটিও নিজ দলের ক্রিকেটারদের কঠোরভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আজ মিরপুরে হোম অব ক্রিকেটে দলের অনুশীলনের ফাঁকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাবুল বলেন, “ঈদের লম্বা ছুটিতে ক্রিকেটাররা সবাই কিছুটা উৎসবের আমেজে ছিল। আমরা আগামীকালকের বড় ম্যাচের আগে আজকে মোটামুটি দলের সবাইকে ঢাকায় একত্রিত করার চেষ্টা করেছি। প্রায় দেড় ঘণ্টা আমরা আজ মাঠে কড়া প্র্যাকটিস সেশন করেছি।”
কোচ আরও যোগ করে বলেন, “মা শা আল্লাহ দলের সবাই খুব ভালো কন্ডিশনে এবং চনমনে আছে। আর আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হলো— শুধু নাহিদ রানা না, বিশ্বস্ত তাসকিন আহমেদও আমাদের স্কোয়াডের সাথে যুক্ত হয়েছে। আমরা টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব পেরেছি সুপার লিগের আগে আমাদের মূল টিমটাকে আরও শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করেছি। যেহেতু আগামীকালকের ম্যাচটা আমাদের জন্য টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ রূপগঞ্জও অনেক ব্যালেন্সড একটা টিম। তারাও তাদের পুরো শক্তির সেরা স্কোয়াড নিয়ে কাল মাঠে নামছে। আমার কাছে মনে হয় যে খুব উপভোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচ আগামীকাল ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখতে পাবেন।”
চলতি লিগে এ পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার একক শীর্ষে অবস্থান করছে মোহামেডান। তবে শীর্ষস্থানে থাকলেও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন অভিজ্ঞ কোচ বাবুল। গাণিতিক হিসেব তুলে ধরে তিনি বললেন, “যদিও আমরা বর্তমানে টেবিলের অন্য দলগুলোর চেয়ে দুই পয়েন্ট বেশি এগিয়ে আছি, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে এটা এমন কোনো বড় গ্যাপ বা ব্যবধান না। মাত্র একটা ম্যাচের ফল অন্যরকম বা কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এদিক-ওদিক হলেই আবার সব দল পয়েন্ট টেবিলে আমাদের সমকক্ষ হয়ে যাবে। এবারের চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইটা এতই কঠিন ও কষ্টদায়ক যে— প্রতিটা ম্যাচই আমাদের নিখুঁত খেলতে হবে। আমাদের সামনে যে শেষ চারটা ম্যাচ আছে, তার প্রতিটা ম্যাচেই বাধ্যতামূলকভাবে জিততে হবে যদি আমরা মোহামেডানকে এবার ডিপিএল চ্যাম্পিয়ন করতে চাই।”
কাগজে-কলমে তারকাবহুল ও একঝাঁক সুপারস্টারদের নিয়ে দল গড়লেও যে মাঠের ক্রিকেটে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় না, সেই কঠোর বাস্তবতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন মোহামেডানের এই মাস্টারমাইন্ড। বিশেষ করে বাংলাদেশের চলতি মৌসুমের আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা নিয়ে বেশ চিন্তিত তিনি। বাবুল বলেন, “বিশেষ করে দেখা যাচ্ছে যে এই সিজনে যে তীব্র গরম ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে এবং দেশের ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন মাঠে খেলা চলছে, একেকটা মাঠের উইকেট ও কন্ডিশন একেক রকম। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো হঠাৎ বৃষ্টি হওয়া। দলে অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক স্টার বা তারকা খেলোয়াড় দিয়েও কিন্তু আপনি মাঠের ফল বদলাতে পারবেন না, যদি হুট করে আকস্মিক বৃষ্টি এসে খেলা পণ্ড করে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ২ পয়েন্ট হাতছাড়া হয়ে যায়। একজন পেশাদার কোচ হিসেবে আমার দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে এই বছর আমি নিজের দল নিয়ে অনেক বেশি এক্সাইটেড বা রোমাঞ্চিত বলব, আবার একই সাথে কিছুটা আতঙ্কিতও আরকি। আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যেই এই মেগা টিম তৈরি করেছি, কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমাদের সামনে এখনো অনেক অদৃশ্য প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম বাধা অতিক্রম করতে হবে।”
আসন্ন ম্যাচগুলো নিয়ে মোহামেডানের চূড়ান্ত ও স্পষ্ট লক্ষ্য জানিয়ে শেষে মিজানুর রহমান বাবুল দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “বর্তমানে আমাদের যে নিখুঁত টিম কম্বিনেশনটা আমরা হাতে পেয়েছি, সেখানে তারুণ্যের গতি, দীর্ঘদিনের ঘরোয়া অভিজ্ঞতা এবং বেশ কয়েকজন ম্যাচ উইনার পারফর্মার আছেন। এই অভিজ্ঞতাই আমাদের টিমের মূল শক্তি। ইনশাআল্লাহ আমরা ড্রেসিংরুমে পরিকল্পনা করেছি যে আমরা সামনের দিকে বড় দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা না করে একটা একটা করে সিঙ্গেল ম্যাচ ধরে এগোব। আমাদের দলের যে সামর্থ্য আছে, তাতে বাকি চারটা ম্যাচই টানা জেতার যোগ্যতা এই মোহামেডান স্কোয়াড খুব ভালোভাবেই রাখে।”
জান্নাত সকালবেলা