বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে যুবতীর অনশন

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ণ
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে যুবতীর অনশন

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর এলাকায় বিয়ের দাবিতে তাইজুল ইসলাম (২৫) নামের এক প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন ২০ বছর বয়সী এক যুবতী। 

গতকাল রবিবার (৩১ মে) দুপুর ৩টা থেকে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে প্রেমিক তাইজুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম ইউসুফপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে।

ভুক্তভোগী যুবতী জানান, প্রায় ১০ মাস আগে মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় তাইজুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাইজুল তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। যুবতীর ভাষ্যমতে, গতকাল রবিবার তাঁদের বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন ছিল। ওইদিন মোবাইল ফোনে ধর্মীয় নিয়মে কালিমা পড়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে তাইজুল তাঁকে আশ্বস্ত করেন এবং পরে কাজী অফিসে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তাইজুল নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও তাইজুলের পরিবার বিয়েতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তাইজুল ফোন অন করে তাঁকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন বলে যুবতী অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত তাইজুলের বিরুদ্ধে এর আগেও এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছিল। ইউসুফপুর স্থানীয় সালিশ কমিটির সভাপতি আফাজ উদ্দিন মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি নিজে তাইজুল ও তার বাবাকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা গুরুত্ব দেয়নি। তাইজুল জানিয়েছে, অন্য এক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে এবং সে তাকেই বিয়ে করবে। ছেলেটির বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ থাকায় আমরা মেয়ের পরিবারকে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”

এদিকে ভুক্তভোগী যুবতীর খালা মোসাঃ মুনিয়া জানান, ছেলের পরিবার বিয়ের জন্য ৫ দিনের সময় চেয়ে নিয়েছে। তাই আপাতত তাঁরা মামলা করছেন না। তবে ৫ দিন পর বিয়ে না হলে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

এ বিষয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট রজব আলী জানান, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। অভিযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন