শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে পারা একটা ইবাদত: শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া একটি মহান ইবাদততুল্য দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই মূলত একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতিগঠনের মূল ভিত্তি রচিত হয়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি এই কাজ সততা ও নিষ্ঠার সাথে সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, তবে তা ইহকালে কল্যাণ এবং পরকালে ‘সদকায়ে জারিয়া’ হিসেবে গণ্য হবে।”
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দেশব্যাপী ‘বই পড়া কর্মসূচি’র বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অতীতের মতো কোনো কৃত্রিম উপায়ে পাসের হার কিংবা জিপিএ বাড়িয়ে ভালো দেখানোর প্রবণতা প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। খাতার পাতায় শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে যা লিখেছে, কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ঠিক সেই আলোকেই ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
দেশের তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সরকারের গৃহিত সামাজিক সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পুষ্টিকর ‘মিড ডে মিল’ চালু এবং নিয়মিত উপবৃত্তি প্রদানের মতো সমন্বিত ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”
নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশ ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আজকের তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি এবং অতিরিক্ত স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর আসক্তি থেকে রক্ষা করতে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বই পড়া কর্মসূচি এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। জাতিকে মননশীল করতে দেশজুড়ে এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার সোনালী অভ্যাসে ফিরিয়ে এনে একটি চিন্তাশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।