যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আসলে কেন হলো

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আসলে কেন হলো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্ব এক উত্তাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি যুদ্ধের সমাপ্তি টানলেও অনেক বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। হাজারো প্রাণহানি আর বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির পর দুই দেশ কি শেষ পর্যন্ত ২৭ ফেব্রুয়ারির সেই পুরনো অবস্থানেই ফিরে গেল?

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ছিল ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় ভুল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপে প্রভাবিত হয়ে ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু করেছিলেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে তেহরানের পতন ঘটবে—এমনটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা। কিন্তু এই সামরিক ও রাজনৈতিক হিসাব যে কতটা ভুল ছিল, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইরানের অস্তিত্বের সংকটে পড়ার পর তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেয়। এই একটি পদক্ষেপই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। হরমুজ বন্ধ হওয়ার ফলে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য হয়। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী:

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে বন্দর অবরোধ তুলে নেবে। তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনসহ অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এই যুদ্ধবিরতির ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা যুদ্ধের শুরুতেই বিদ্যমান ছিল। এর জন্য যে বিশাল মূল্য দিতে হয়েছে, তা কি আদৌ প্রয়োজন ছিল?

যদিও এই সমঝোতা কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নয়, তবে এটি আগামী ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। দুই দেশের কট্টরপন্থীরা এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের বিকল্প নেই।

যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে আসা এই সমঝোতা কি আদৌ কোনো রাজনৈতিক অর্জন, নাকি কেবলই বিশাল ক্ষতির আড়াল করার চেষ্টা—এই প্রশ্নটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন