হামলার আশঙ্কায় তুরস্কে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরান সমর্থিত সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সুনির্দিষ্ট ও মারাত্মক হামলার হুমকির মুখে এ মাসে তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফেরার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের উড়োজাহাজ দ্রুত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিস্ফোরক এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি তুরস্কে আয়োজিত ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে রাজধানী আঙ্কারা সফরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি কাতারি আমিরের দেওয়া বিশেষ উপহারের 'বোয়িং ৭৪৭-৮' বিমানটিতে চড়ে যাতায়াত করেন। তবে উক্ত বিমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল বাহন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এর মতো অত্যাধুনিক ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজার্স প্রযুক্তি যুক্ত ছিল না।
আঙ্কারা সফর শেষের দিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খবর পায় যে, ট্রাম্প ও তাঁর সাময়িক বিমানে সরাসরি আকাশপথে হামলা চালানোর প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা ছক কষেছে ইরানি মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এই নির্দিষ্ট আকাশ নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা জানতে পেরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী 'সিক্রেট সার্ভিস' উড্ডয়নের পূর্বমুহূর্তেই বিমানটি বদলে ফেলার জোরালো তাগিদ দেয়।
সিক্রেট সার্ভিসের সেই অতিজরুরি পরামর্শ ও নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সফর শেষে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পূর্বে নির্ধারিত কাতার-উপহারের বিমানটি বাদ দিয়ে নিরাপদ বিকল্প সামরিক বা বিশেষ বিমানে ওঠেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংকেত থেকে প্রাপ্ত সংবেদনশীল তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে—হুমকিটি কোনো নির্দিষ্ট মডেলের বিমানে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সফর শেষ করে যে বিমানেই উঠুন না কেন, সরাসরি তাঁর আকাশযান লক্ষ্য করে দূরপাল্লার আঘাত হানার চূড়ান্ত নকশা তৈরি করেছিল ইরান সমর্থিত প্রক্সি শক্তিগুলো।
|