কিশোরগঞ্জে পানিতে ডুবে ৪ শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে পানিতে ডুবে ৪ শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
কিশোরগঞ্জে একের পর এক পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক পাঁচটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে চার শিশুসহ মোট পাঁচজনের অকালমৃত্যু হয়েছে।

গত শুক্রবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে জেলার নিকলী, মিঠামইন, কটিয়াদী, ভৈরব ও করিমগঞ্জে এসব পৃথক দুর্ঘটনা ঘটে। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত চার শিশু হলো—নিকলীর নানশ্রী গ্রামের মোহাম্মদ হাকিম (৫), টঙ্গীর বাইতুল কোরআন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদীর দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের নাঈম মিয়া (১১) এবং ভৈরবের জগন্নাথপুর এলাকার শুভ ইসলাম স্মরণ (১২)। এছাড়াও মর্মান্তিক এই তালিকায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জ সদরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামে বাড়ির পাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে মারা যায় শিশু হাকিম। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে ৪০ জনের একটি মাদ্রাসা দলের সঙ্গে শিক্ষা সফরে মিঠামইনের হাওরে এসে গোসল করতে নেমে তীব্র স্রোতে ভেসে যায় শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

দুপুর ২টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামে বিলে গোসল শেষে ফেলে আসা প্লাস্টিকের বোতল আনতে গিয়ে পা পিছলে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় শিশু নাঈম মিয়া। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

অন্য ঘটনাটিতে ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া শিশু শুভ ইসলাম স্মরণের মরদেহ শুক্রবার বিকেলে নদীতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে।

সবশেষে শুক্রবার বিকেলে করিমগঞ্জের বালিখলা হাওরে ঘটে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। কিশোরগঞ্জ সদরের গাইটাল এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে ট্রলারভ্রমণে বের হওয়া ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন মিলনের ছোট মেয়ে অসাবধানতাবশত হাওরের পানিতে পড়ে যায়। কোনো কিছু না ভেবেই তাৎক্ষণিক মেয়েকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দেন তিনি। মেয়েকে অক্ষত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে পারলেও তীব্র স্রোতের টানে নিজে তলিয়ে যান মিলন। পরবর্তীতে স্থানীয় নৌকাচালক ও পুলিশ দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

পৃথক এসব দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর কর্মকর্তারা জানান, আইনি ও প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন