সব বন্ধ করলেও প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে পারেননি: মোদিকে রাহুল গান্ধী
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের চিকিৎসা সংক্রান্ত সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট' (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ ও পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মোদি সরকারকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট থেকে শুরু করে যাতায়াত ব্যবস্থা—সব বন্ধ করলেও সরকার কেবল একটি জিনিসই বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে, আর তা হলো প্রশ্নফাঁস।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি এই খোঁচা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক 'হিন্দুস্তান টাইমস'-এর খবরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এক্স পোস্টে রাহুল গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যেতের সুরক্ষার দাবি জানানো নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি সম্বোধন করে তিনি কটাক্ষের সুরে আরও যোগ করেন, "মেট্রো বন্ধ করো, রাস্তা বন্ধ করো, দোকান বন্ধ করো, ইন্টারনেট বন্ধ করো, খাবার বন্ধ করো—কিন্তু একটি জিনিসই আপনারা বন্ধ করতে পারলেন না মিস্টার মোদি, আর তা হলো প্রশ্নফাঁস!"
এদিকে রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিশাল আন্দোলন ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে অভূতপূর্ব ও সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য পুলিশ। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মদের দোকানগুলোও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশের সকল স্তরের কর্মকর্তার নিয়মিত ছুটি বাতিল করে সবাইকে জরুরি ভিত্তিতে রাজপথে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফার প্রস্তাবিত বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পূর্বে নিজেদের দাবির বিষয়ে আরও বেশি অনড় ও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী দল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদচ্যুত করা না হলে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনার যৌক্তিকতা অবশিষ্ট থাকে না।
আজ সকালে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক্স পোস্টে পুনরুল্লেখ করে জানান, "শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগের যে সুনির্দিষ্ট দাবি উঠেছে, তাতে কোনো ধরনের ছাড় বা আপস হবে না। সরকার এতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত না হলে এই ধরনের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো মানে নেই।
|