প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
প্রচণ্ড দাবদাহ ও বজ্রপাতে কানাডাজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ
কানাডার বনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল

অনলাইন ডেস্ক: কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে শুরু করে অন্টারিও পর্যন্ত নতুন করে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এযাবৎকালের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন দাবানল মৌসুমের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক এই পরিবেশগত দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সংকটময় পরিস্থিতি হিসেবে অভিহিত করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩৪ হাজারেরও বেশি ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে, যা ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক নতুন দাবানলের জন্ম দিয়েছে। অঞ্চলটিতে এখনো প্রায় ৯০টি সক্রিয় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন রক্ষার্থে নিরাপদে সরে যেতে অন্তত ২৫টি জরুরি নির্দেশ জারি করেছে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ।

ভ্যাঙ্কুভারের কাছে কিম্বার্লির দাবানল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনসিডেন্ট কমান্ডার হিউ মারডক জানান, অতিমাত্রায় শুষ্ক ও চরম উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে বনের আগুন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া নিকট ভবিষ্যতে কোনো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

প্রচণ্ড তাপদাহ ও বজ্রপাতে সৃষ্ট এই দাবানলের বিষাক্ত ও ঘন ধোঁয়া ইতিমধ্যেই সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক বিষাক্ত ধোঁয়ার বিস্তার বিবেচনা করে আলবার্টার ব্যানফ ও এর পার্শ্ববর্তী পুরো এলাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা (Air Quality Health Index) জারি করেছে পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কানাডা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কানাডা সরকার। অনিয়ন্ত্রিত আগুন নেভাতে ইতিমধ্যেই ৫,৩০০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ দমকলকর্মী এবং প্রায় ৩০০টি ওয়াটার বোম্বার বিশেষ বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে মেক্সিকো থেকে আরো ২০০ জন বিশেষ অভিজ্ঞ দমকলকর্মী আগামী সপ্তাহে কানাডায় পৌঁছাবেন।

কানাডিয়ান অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশটির প্রায় ২৯.৫ লাখ (২.৯৫ মিলিয়ন) হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গত এক দশকের সব গড় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিপদজনক এলাকাগুলো থেকে আদিবাসী গোষ্ঠীসহ হাজার হাজার মানুষকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও কুইবেকসহ পূর্বাঞ্চলীয় কিছু প্রদেশে আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি পুনরায় চরম রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন