রাজশাহীর শীর্ষ মাদক কারবারি সাজাপ্রাপ্ত ‘চিট রাসেল’ এখনও অধরা
মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের আলোচিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনোয়ারুল হাসান রাসেল, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ওনার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হওয়া এবং অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা একটি দায়রা মামলায় (মামলা নং-৩০৯৫/২০২১) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পলাতক আসামি মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪, চট্টগ্রাম ওনাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ওনার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও তিনি এখনো আইনের আওতায় আসেননি। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থাকলেও ওনার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কোনো তদন্ত বা মামলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়া তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারুল হাসান রাসেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ইয়াবা সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত।
২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় আরএমপি ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাসা থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবাসহ রাসেল ও ওনার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকা থেকে প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ও ট্রাকসহ র্যাব-১২ ওনাকে আটক করেছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল দেড় কোটি টাকা।
স্থানীয়রা জানান, একসময় বাসের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করা রাসেল পরে হেরোইন বহনের মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেটে জড়ান। পরবর্তীতে নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলে ইয়াবা সরবরাহের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ওনার মালিকানায় রাজশাহী শহরে বহুতল ভবন, দামি ফ্ল্যাট ও জমি সহ শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ উঠে আসে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আদালতের সাজা দ্রুত কার্যকর করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন এবং অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে ওনার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
|