শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনার মানে হয় না: ককরোচ জনতা পার্টি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে তৃতীয় দফার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈঠকে বসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পূর্বে নিজেদের দাবিতে অভূতপূর্ব কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ব্যতিরেকে সরকারের সংগে দ্বিতীয় কোনো বিষয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ বা যৌক্তিকতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রকাশিত সংবাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রসংগে জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এ একটি বিশেষ বার্তার মাধ্যমে জানান, "শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগের মূল দাবিটি অলঙ্ঘনীয়। সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তে সম্মত না হয়, তবে বারবার এমন নিষ্ফল আলোচনার আর কোনো মানে বা ভিত্তি থাকে না।"
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধান তিনটি দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়—
১. শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২. আন্দোলনকারী হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গৃহীত সমস্ত আইনি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
৩. নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারকে অবিলম্বে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সংগে সিজেপির প্রতিনিধিদলের প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী দ্বিতীয় দফার দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আইনি সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নীতিতে সরকার সম্মত হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সে সময় জেপি নাড্ডা জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ মহলে পর্যালোচনার পর শনিবার বিকেলে পুনরায় বসা হবে।
তবে ভারতের সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মোদি সরকার এই মুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশেই অনড় অবস্থান নিচ্ছে এবং তাঁর পদত্যাগের কোনো রাজনৈতিক সম্ভাবনা আপাতত নেই।
যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ভারতের সর্বভারতীয় পরীক্ষা সংস্থা এনটিএ (NTA)-র ৪৭ জন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, শিক্ষা সচিব পদে আনা হয়েছে নতুন মুখ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনসহ চরম কঠোর শাস্তির আইন প্রবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা মনে করেন, "প্রশাসনিক অনিয়মের মূল ও চূড়ান্ত দায়িত্বভার শিক্ষামন্ত্রীরই। তাই কেবল নিচের স্তরের কর্মকর্তা ছাঁটাই করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
|