ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তাছনিম আলম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও সকল আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) সকালে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন নিহতের স্বজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেটে ‘বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী’র ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবরোধে কুষ্টিয়ার প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ কেবল প্রধান আসামি ফজলুকে গ্রেফতার দেখিয়ে অন্য আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘অসহযোগিতা’ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সড়ক অবরোধ শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিদাওয়া পেশ করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা। সাংবাদিকদের ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “পুলিশ আশ্বাস দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না। দ্রুত বিচার না পেলে আমরা ভিসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি ফজলুর রহমানের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে। মামলার অন্য তিন আসামি—সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষে আসমা সাদিয়া রুনা নৃশংসভাবে খুন হন। ওই সময় কক্ষটি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ